যেখানেই মব ভায়োলেন্স, সেখানেই গ্রেফতারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় বা যে কেউ হোক, এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। গত সাত মাসে সকল মব ভায়োলেন্সের সাথে জড়িতদের গোয়েন্দা তথ্য নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মাহফুজ আলম। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
কখনো ছাত্র সমন্বয়ক, কখনো ছাত্রজনতা বা রাজনৈতিক দলের নামে সংগঠিত হয়ে মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটছে। থেমে নেই গুলশানে এক বাসায় মবের নামে লুটপাটের ঘটনাসহ এর আগে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনা। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে। প্রধান উপদেষ্টার সাথে উপদেষ্টাদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, গত সাত মাসে মব ভায়োলেন্সের ঘটনার গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত সাত-আট মাসে যে যেখানে ঝামেলা করছে, যে যেখানে মব জাস্টিস করছে, সবই গোয়েন্দা সংস্থা পর্যবেক্ষণে আছে। আমরা আরও বলছি, প্রোঅ্যাকটিভভাবে সব নজরদারির আওতায় আনার জন্য কাজ করছি।
হিজবুত তাহরীরের মিছিল থেকে শুরু করে, যেখানে যা ঘটছে, অনেক কিছুই আমাদের প্রত্যাশার বাইরে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অসংগঠনের কারণে আমরা বলছি যে, আজ থেকে আমরা চেষ্টা করব সমন্বিতভাবে সব তথ্য সংগ্রহ করতে। অপরাধী যেখানে থাকবে, সেখানেই আমরা তাকে গ্রেপ্তার করবো, একদিনও অপেক্ষা করবো না। আমরা ঘটনাস্থল থেকেই অপরাধীকে আটক করবো। নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হবে না—এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সাথে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে, এবং তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য থানায় মব সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “আমরা যদি তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই, মামলা দায়ের করা হয়, কিংবা ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তারা নজরদারিতে আছে।”
মাহফুজ আলম আরও বলেন, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।